Edinbox Bengali

যে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিল: ইরান, ইজরায়েল, আমেরিকা এবং নতুন বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ

বহুদিন ধরে জমে ওঠা এক যুদ্ধ

টেলিভিশনে যুদ্ধকে অনেক সময় হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে বড় যুদ্ধগুলো সাধারণত বহু বছর ধরে তৈরি হয়। কূটনীতি, প্রকাশ্য অবস্থান, গোপন অভিযান এবং পারস্পরিক ভয়—সব মিলিয়ে সংঘাত ধীরে ধীরে পাকতে থাকে। বর্তমান ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধও তেমনই। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ একদিন কেউ ঘুম থেকে উঠে যুদ্ধ শুরু করে দেয়নি। বহু বছর ধরে সংঘাতের মাটি প্রস্তুত হয়েছিল। কূটনৈতিক চেষ্টা ছিল, কিন্তু তা শক্তির রাজনীতিকে হারানোর মতো দৃঢ় হয়ে উঠতে পারেনি।

তাই হামলার সরকারি ব্যাখ্যা পুরো সত্যিটা বলে না। প্রকাশ্যে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, তারা এক অসহনীয় হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘোষিত লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—ইরানকে পারমাণবিক ক্ষমতার দোরগোড়া পেরোতে না দেওয়া, তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করা, এবং সেই সামরিক শক্তিকে ভেঙে দেওয়া যা তেহরানকে ইজরায়েলের কাছে বিপজ্জনক এবং অঞ্চলটির কাছে অস্থিরতার উৎস করে তুলেছে। এই ব্যাখ্যায় যুদ্ধটিকে আগে থেকে রুখে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো হয়।

কিন্তু ইতিহাস সাধারণত সরকারি বিবৃতির চেয়ে অনেক বেশি স্তরযুক্ত। হামলার সময় ইরানের সঙ্গে কোনো পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবে চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা এগোচ্ছিল বলে খবর ছিল, এবং একটা বড় সমঝোতার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বলেও মনে হচ্ছিল। তবু সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো তখনও মেটেনি। ইরান চাইছিল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। পশ্চিমা শক্তিগুলো চাইছিল কঠোর সীমাবদ্ধতা ও গভীর নজরদারি। আর ইজরায়েল চাইছিল শুধু গতি কমানো নয়, বরং ইরানের কৌশলগত শক্তিকে আরও পিছিয়ে দেওয়া। টেবিলে যা ছিল, তা হয়তো ঝুঁকি কমাতে পারত, কিন্তু পুরোপুরি মুছে দিতে পারত না।

এই পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যদি আলোচনা চলছিল কিন্তু ইজরায়েল যে চূড়ান্ত ফল চাইছিল তা দিচ্ছিল না, তাহলে হামলাটি শুধু প্রতিক্রিয়া বলে মনে হয় না; বরং একটি সচেতন সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়। অর্থাৎ, এমন এক কূটনৈতিক বন্দোবস্ত পাকাপাকি হয়ে যাওয়ার আগেই আঘাত করা, যেটাকে পরে রাজনৈতিকভাবে ভাঙা কঠিন হয়ে যেত। সে দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই হামলা শান্তির ভেঙে পড়া নয়; বরং অসম্পূর্ণ শান্তিকে প্রত্যাখ্যান করা।

ছায়াযুদ্ধ অবশেষে প্রকাশ্যে এলো

এই অঞ্চলের বর্তমান অবস্থাকে বুঝতে হলে আরও পিছনে যেতে হবে। বহু বছর ধরে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে এক ছায়াযুদ্ধ চলছিল। সেখানে ছিল হত্যাকাণ্ড, ধ্বংসাত্মক গোপন অভিযান, সাইবার হামলা, প্রক্সি নেটওয়ার্কে আঘাত এবং তেহরানকে দুর্বল করার দীর্ঘ চাপের কৌশল—যাতে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক বিস্ফোরণ না ঘটে। অনেক বছর আগে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা সেই সংঘাতকে আরও প্রকাশ্য ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। আগের পারমাণবিক কূটনীতির ভাঙন অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি ব্যর্থ আলোচনা পরের সংঘাতকে আরও বেশি সম্ভবপর করে তোলে।

এরপর দুর্বল হতে শুরু করে ইরানের বাইরের প্রতিরোধ বলয়। গত কয়েক বছরের যুদ্ধ ও প্রক্সি সংঘর্ষ, বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের পরের ঘটনাপ্রবাহ, তেহরানের বহু নির্ভরতার স্তম্ভকে আঘাত করে। হিজবুল্লাহর ওপর চাপ বাড়ে। সিরিয়া কম নির্ভরযোগ্য করিডরে পরিণত হয়। যেসব অংশীদার আগে ইরানের চারপাশে এক ধরনের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছিল, তারা আর আগের মতো কার্যকর থাকেনি। একই সময়ে ভেঙে যায় পুরনো অনেক নিষেধরেখা। ইরান ও ইজরায়েল ইতিমধ্যেই আগের তুলনায় অনেক বেশি সরাসরি আঘাত-বিনিময় করেছিল। যা দীর্ঘদিন পরোক্ষ ছিল, তা ক্রমশ প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে। যা একসময় অকল্পনীয় মনে হত, তা প্রায় অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হতে শুরু করে।

২০২৬ সালের শুরুতে এসে অঞ্চলটির প্রশ্ন আর ছিল না—ছায়াযুদ্ধ কি সত্যিকারের যুদ্ধে বদলাবে? প্রশ্ন ছিল—কবে বদলাবে?

উপসাগরীয় দেশগুলোর অস্বস্তিকর জাগরণ

প্রথম দিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধকে নিজেদের থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল। তাদের মনোভাব আদর্শবাদী ছিল না, ছিল বাস্তববাদী। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান—সবাই বুঝত, ইরানকে ঘিরে বড় যুদ্ধ মানে তাদের বহু বছরের পরিশ্রমে তৈরি জিনিসগুলোর ওপর আঘাত: বিনিয়োগকারীদের আস্থা, বাণিজ্যপ্রবাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবহন নির্ভরতা, পর্যটন, এবং উপসাগরকে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সংযোগস্থল হিসেবে গড়ে তোলার ভাবমূর্তি। তারা যুদ্ধক্ষেত্র হতে চাইনি। তারা আগুনকে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল।

এই প্রথমদিকের অবস্থান ফুটে উঠেছিল সংযম, উত্তেজনা হ্রাস ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ভাষায়। ওমান তার পুরনো অভ্যাসমতো মধ্যস্থতার পথে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়। কাতারও সংলাপে আগ্রহী ছিল। সৌদি আরব ও আমিরাত ইরানকে নিয়ে সতর্ক থাকলেও গোটা অঞ্চল ভেঙে পড়ুক, তা চায়নি। অর্থাৎ, উপসাগরীয় মনোভাব ছিল না আমেরিকা-ইজরায়েল অভিযানের প্রতি উচ্ছ্বাস; বরং ছিল কৌশলগত অস্বস্তি।

কিন্তু যুদ্ধের একটা স্বভাব আছে—যারা সবচেয়ে বেশি দূরে থাকতে চায়, তাদেরও টেনে আনে। ইরানের পাল্টা আঘাত যখন উপসাগরীয় সম্পদ, আকাশসীমা, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে ছুঁতে শুরু করল, তখন ভাষা বদলাতে শুরু করল। অঞ্চলটি একযোগে যুদ্ধপন্থী হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তারা আরও রক্ষামূলক, আরও উদ্বিগ্ন, এবং তেহরানের সেই দাবি সম্পর্কে আরও কম নিশ্চিত হয়ে উঠল যে তার লড়াই কেবল ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে। সৌদি আরব সতর্ক নিরপেক্ষতা থেকে প্রতিরোধ-মনোভাবের দিকে এগোল। আমিরাত অস্থিতিশীল আক্রমণ নিয়ে আরও কঠোর ভাষায় কথা বলতে শুরু করল। কাতারকেও একসঙ্গে মধ্যস্থতা ও আত্মরক্ষার ভারসাম্য রক্ষা করতে হল। বাহরাইন ও কুয়েত তাদের ভৌগোলিক ঝুঁকি ও নিরাপত্তা সম্পর্কের কারণে সংকট ব্যবস্থাপনায় আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ল।

প্রথম দুই সপ্তাহে উপসাগরীয় অবস্থানের এই পরিবর্তন খুব তাৎপর্যপূর্ণ। তারা এখনো যুদ্ধ থামাতে চায়। তারা এখনো অঞ্চলজুড়ে ভাঙনকে কারও পূর্ণ বিজয়ের চেয়ে বেশি ভয় পায়। কিন্তু যুদ্ধ যখন তাদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার খুব কাছাকাছি চলে এল, তখন তাদের নিরপেক্ষতা অনেক বেশি ভঙ্গুর হয়ে উঠল।

ভারত ও ইউরোপ: ভারসাম্য রাখার চেষ্টা, নিয়ন্ত্রণ নয়

যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই ধরনের কৌশলগত ভারসাম্যের উদাহরণ।

ভারতের অবস্থান গড়ে উঠেছে বাস্তব ঝুঁকি ও সংযমের ওপর। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের স্বার্থ এত বেশি যে নৈতিক চরমপন্থা দেখানোর সুযোগ তার নেই। জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, সমুদ্রপথ, বাণিজ্য, প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং বড় ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক—সব মিলিয়ে নয়াদিল্লিকে খুব সতর্ক ভাষায় কথা বলতে হয়। এমন সংকটে ভারতের অবস্থান সাধারণত নাটকীয় হয় না; বরং কার্যকরী হয়। নাগরিকদের রক্ষা করা, যোগাযোগ ও বাণিজ্যপথ চালু রাখা, প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, এবং অন্য কারও যুদ্ধের বয়ানে নিজেকে ফাঁসিয়ে না ফেলা—এই তার প্রবণতা। গত দুই সপ্তাহে ভারতের অবস্থানের মূল নীতি খুব বদলায়নি, কিন্তু গুরুত্বের কেন্দ্র বদলেছে। শুরুতে সতর্ক পর্যবেক্ষণ ছিল; পরে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ঝুঁকি বাড়ায় উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইউরোপের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বেশি দ্বিধাগ্রস্ত। ইউরোপ সাধারণত আইন, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং সংযমের ভাষায় কথা বলে। কিন্তু একই সঙ্গে ইউরোপ ভয় পায়—জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত, সমুদ্রপথের অনিরাপত্তা, শরণার্থী চাপ, এবং এমন কোনো কূটনৈতিক কাঠামোর সম্পূর্ণ পতন, যা এখনো কাজে লাগতে পারত। ফলে সরকারি বিবৃতিতে যতটা ঐক্য শোনায়, বাস্তবে ততটা নেই। ইউরোপের কিছু অংশ প্রথম হামলায় গভীর অস্বস্তি বোধ করছে। অন্য অংশ বেশি মনোযোগ দিচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত নিয়ন্ত্রণে। তাদের একমাত্র মিল হল কৌশলগত আত্মবিশ্বাস নয়, বরং উদ্বেগ। ইউরোপ উত্তেজনা কমাতে চায়, কিন্তু তা চাপিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী প্রভাব তার হাতে নেই।

এক অর্থে ভারত ও ইউরোপ একই বাস্তবতাকে ভিন্ন দিক থেকে সামলাতে চাইছে। এই যুদ্ধকে উপেক্ষা করা যায় না, এতে জড়িয়ে পড়াও বিপজ্জনক, আবার একে পুরোপুরি ওয়াশিংটন, জেরুজালেম ও তেহরানের হাতে ছেড়েও দেওয়া যায় না।

রাশিয়া ও চীন: বিরোধিতা আছে, কিন্তু উদ্ধার করতে নামা নয়

রাশিয়া ও চীন—দু’দেশই আমেরিকা-ইজরায়েল অভিযানের বিরোধিতা করেছে। তবে তাদের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি এক নয়।

রাশিয়ার কাছে ইরান বড় ভূরাজনৈতিক ছবির একটি অংশ। তেহরান যদি চূর্ণভাবে পরাজিত হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নতুনভাবে সাজবে না; বরং এমন এক সময় পশ্চিমা শক্তি আরও শক্তিশালী হবে, যখন মস্কো ঠিক উল্টো চায়। তাই রাশিয়া এই যুদ্ধকে বহুমেরু বিশ্বের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, এমনকি প্রযুক্তিগত সমর্থনের মাধ্যমে ইরানকে টিকিয়ে রাখা মানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে পরিষ্কার কৌশলগত জয় থেকে বঞ্চিত করা। রাশিয়ার লক্ষ্য ইরানকে কোনো রোমান্টিক অর্থে বিজয়ী করা নয়; বরং পশ্চিমা সামরিক সাফল্য দিয়ে পুরো আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে না দেওয়া।

চীনের অবস্থান আরও সতর্ক এবং বাণিজ্যকেন্দ্রিক। বেইজিং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও কূটনীতির পথ ভেঙে দেওয়ার বিরোধী। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ স্থিতিশীলতা। এই বৃহৎ অঞ্চল থেকে চীনের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নির্ভরতা অনেক বেশি। দীর্ঘ যুদ্ধ, সমুদ্রপথে ব্যাঘাত, পণ্যমূল্যের ধাক্কা, এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অঞ্চলের অস্থিরতা—এসবের কোনোটাই চীন চায় না। তাই চীনের অবস্থান আদর্শগতের চেয়ে বেশি কার্যকরী: উত্তেজনা থামাও, প্রবাহ বজায় রাখো, কৌশলগত বিশৃঙ্খলা এড়াও।

রাশিয়া ও চীন মিলে ইরানের জন্য এক ধরনের সুরক্ষিত পেছনের পরিবেশ তৈরি করছে, কিন্তু তারা কোনো সরাসরি সামরিক জোট হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে পড়ছে না। তারা রক্ষাকর্তার ভূমিকায় আসছে না। তারা শুধু নিশ্চিত করছে, ইরান যেন পুরোপুরি একঘরে না হয়ে যায়।

ইরানের পাল্টা চাল: লক্ষ্যবস্তু থেকে কৌশলগত বিঘ্নস্রষ্টা

ইরানের ওপর প্রথম দফার আঘাত সম্ভবত আধুনিক যুদ্ধের এক পরিচিত ধারণা মাথায় রেখেই পরিকল্পিত ছিল—দ্রুত আঘাত করো, কমান্ড কাঠামো অন্ধ করো, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দাও, প্রতিক্রিয়ার গতি ভেঙে দাও, এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি করো যাতে রাষ্ট্রটি নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার আগেই হোঁচট খায়। কিছুক্ষণের জন্য সেটি সম্ভব বলেই মনে হয়েছিল। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি ছিল গুরুতর। নেতৃত্বের কেন্দ্র আঘাত পায়। উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা নিহত হন। বার্তাটি ছিল স্পষ্ট—শক্তির প্রদর্শন।

কিন্তু ইরান ভেঙে পড়া রাষ্ট্রের মতো আচরণ করেনি। সে আচরণ করেছে এমন এক রাষ্ট্রের মতো, যে বহুদিন ধরেই প্রথম আঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল।

সম্ভবত এটাই এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সামরিক শিক্ষা। তেহরানের কৌশলগত মতবাদ যেন শুরু থেকেই ধরে নিয়েছিল, বড় যেকোনো যুদ্ধ প্রথমে নেতৃত্বহীন করার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই শুরু হবে। তাই একটি সুশৃঙ্খল পিরামিড-আকৃতির কমান্ড কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে, তারা জোর দিয়েছে ছড়িয়ে থাকা ক্ষমতা, বিকল্প ব্যবস্থা, শক্ত সুরক্ষিত অবকাঠামো, বিকেন্দ্রীভূত আক্রমণক্ষমতা এবং নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতির পরও টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর। তাদের লক্ষ্য ছিল ক্ষতি ঠেকানো নয়; বরং ক্ষতির পরও ভয়ংকর হয়ে থাকা।

এই জায়গাতেই যুদ্ধে ইরানের চেহারা বদলাতে শুরু করে। শুরুতে সে এক প্রচণ্ড আঘাত সহ্য করা দুর্বল পক্ষ বলে মনে হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে তার প্রকৃত পদ্ধতি দেখা গেল: সরাসরি আকাশে আধিপত্যের লড়াই নয়, বরং ক্ষতির ভৌগোলিক পরিসরকে বিস্তৃত করা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুদ্ধক্ষেত্রকে বড় করে দিল। উপসাগরীয় অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি, সমুদ্রপথ, রাডার, এবং অর্থনৈতিক স্নায়ুকেন্দ্র—সবই কৌশলগত মঞ্চের অংশ হয়ে উঠল। ইরান আমেরিকা ও ইজরায়েলকে প্রচলিত সামরিক অর্থে হারাতে চাইছিল না। সে চাইছিল তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে কৌশলগতভাবে ব্যয়বহুল, রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষয়কর করে তুলতে।

এইভাবেই এক আন্ডারডগ ধীরে ধীরে প্রভাবশালী বলে মনে হতে শুরু করে, যদিও প্রচলিত শক্তির দিক থেকে সে বড় হয়নি। সে চাপের নিয়মটাই বদলে দেয়। সে তার ধনী ও প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর প্রতিপক্ষকে আরও বেশি জায়গা রক্ষা করতে, আরও বেশি অর্থ খরচ করতে, এবং প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি অনিশ্চয়তা সহ্য করতে বাধ্য করে।

হরমুজ: সরু জলপথ, বিশ্বজুড়ে প্রভাব

এই সংঘাতে ইরানের কৌশলগত চিন্তাকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় হরমুজ প্রণালীতে। এই সরু জলপথ শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির এক চাপের জায়গা। তেহরান খুব ভালো করে জানে, এখানে সামান্য হুমকিও উপসাগরের বাইরে বহুদূর প্রতিধ্বনি তোলে। তা পৌঁছে যায় তেলের বাজারে, জাহাজবিমা সংস্থায়, এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে, ইউরোপের উদ্বেগে, এবং দূরের রাজধানীগুলোর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে।

হরমুজকে নিয়ে ইরানের কৌশল ক্রমশ আরও সূক্ষ্ম হয়েছে। পুরো পথ বন্ধ করে দেওয়ার সরল পথের বদলে, বেশি কার্যকর পদ্ধতি হল নিয়ন্ত্রিত বিঘ্ন সৃষ্টি করা। গতি কমিয়ে দাও। ভয় বাড়াও। বিমা খরচ বাড়াও। সময়সূচি বিঘ্নিত করো। এমন অনুভূতি তৈরি করো যে জলপথ কাগজে-কলমে খোলা আছে, কিন্তু বাস্তবে অনিরাপদ। এটি অনিশ্চয়তার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। আর তা কাজও করে, কারণ বাজার শুধু বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়, বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকির প্রতিক্রিয়াতেও কেঁপে ওঠে।

ইরানের দৃষ্টিতে এই কৌশলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সাশ্রয়ী চরিত্রে। প্রচলিত নৌ-ক্ষমতার অর্থে সমুদ্র শাসন করার দরকার নেই। শুধু পথটিকে যথেষ্ট বিপজ্জনক বা যথেষ্ট ব্যয়বহুল করে তুললেই হবে, যাতে শত্রুপক্ষের ওপর কৌশলগত চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। যুদ্ধবিমান দিয়ে স্থাপনা ধ্বংস করা যায়; কিন্তু ভরসা ফিরিয়ে আনা এত সহজ নয়।

আমেরিকা ও ইজরায়েল: যুদ্ধে একসঙ্গে, শেষ লক্ষ্য নিয়ে একমত নয়

শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে একেবারে একসঙ্গে চলতে দেখা গিয়েছিল। দু’পক্ষই বলছিল, ইরানের ক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। দু’পক্ষই যুদ্ধকে প্রয়োজনীয় বলে তুলে ধরছিল। দু’পক্ষই দৃঢ়তার ছবি দিচ্ছিল। কিন্তু সংঘাত যত গভীর হয়েছে, প্রথম ঘোষিত লক্ষ্য আর দীর্ঘস্থায়ী বাস্তব লক্ষ্য—এই দুইয়ের ফারাক তত স্পষ্ট হয়েছে।

ইজরায়েলের কাঙ্ক্ষিত ফল এখনো সম্ভবত অনেক বেশি সর্বোচ্চ পর্যায়ের। তারা শুধু ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া বা ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়াতেই সন্তুষ্ট নয়; তারা ইরানের কৌশলগত অবস্থানের মৌলিক পরিবর্তন চায়। সবচেয়ে কঠোর ভাষায় বললে, তারা শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা বা শাসনপরিবর্তনের দিকেও তাকিয়ে থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে এর চেয়ে কম কিছু হলে তা অসমাপ্ত যুদ্ধ বলে মনে হতে পারে।

আমেরিকার হিসাব তুলনায় বেশি পরিবর্তনশীল। ওয়াশিংটন হয়তো শুরুতে বড় বড় লক্ষ্য ঘোষণা করে যুদ্ধে নেমেছিল, কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা সাধারণত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘাত যত ছড়ায়, বাজার যত কেঁপে ওঠে, মিত্ররা যত উদ্বিগ্ন হয়, এবং আঞ্চলিক আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যত বাড়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ততই নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমাপ্তি খোঁজার কারণ তৈরি হয়। তার মানে—বিজয়কে তুলনামূলকভাবে সীমিতভাবে সংজ্ঞায়িত করা: বড় ক্ষতি করা হয়েছে, প্রতিরোধক্ষমতার বার্তা দেওয়া হয়েছে, প্রধান হুমকিগুলো কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারপর বেরিয়ে আসা।

এখানেই জোটের ভেতরে পরিচিত কিন্তু বিপজ্জনক টানাপোড়েন তৈরি হয়। ইজরায়েল চাইতে পারে অভিযান আরও দীর্ঘ হোক, যতক্ষণ না এক পরিবর্তনমূলক ফল পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ এমন এক থামার জায়গা খুঁজতে পারে, যেটিকে সে সফলতা বলে তুলে ধরতে পারবে। ফলে যুদ্ধে তারা একসঙ্গে থাকলেও, শান্তির রূপ কেমন হবে—সে প্রশ্নে তারা এক নাও হতে পারে।

কার শর্তে যুদ্ধবিরতি?

ইরানের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে তেহরান নিজেকে পরাজিত ভিখারি হিসেবে দেখছে না। খবর অনুযায়ী, তাদের দাবির মধ্যে আছে—পারমাণবিক অধিকারের স্বীকৃতি, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা। এগুলো কোনো খুঁটিনাটি বিষয় নয়। এগুলো সরাসরি যুদ্ধের রাজনৈতিক কেন্দ্রকে স্পর্শ করে। ইরান শুধু বিরতি চায় না; সে নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি চায়।

ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের কাছে এই দাবিগুলো গভীরভাবে সমস্যাজনক। আবার ইরানের ওপর হামলা না করার আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া মানে হবে, বহু বছর ধরে যেটা তারা এড়াতে চেয়েছে, সেই কৌশলগত নিরাপত্তা ইরানকে দিয়ে দেওয়া। একইভাবে, ইরানের স্বাধীন পারমাণবিক জ্বালানি চক্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হবে, তাদের ভাষায়, যে জিনিসটিকে তারা ঠেকাতে চাইছে সেটিকেই বৈধতা দেওয়া। তাই অচলাবস্থা খুবই গভীর। ইরান চায় যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হোক, যাতে তার সহনশীলতা প্রমাণিত হয়। তার প্রতিপক্ষরা চায় যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হোক, যাতে সেই সহনশীলতা পুরস্কৃত না হয়।

এই কারণেই যুদ্ধবিরতির আলোচনা এত কঠিন। সবাই মুখে বেরোনোর পথ খুঁজছে। কিন্তু প্রতিটি সম্ভাব্য পথ গিয়ে মেশে অন্য কারও কৌশলগত পরাজয়ের মধ্যে।

সামরিক যুদ্ধের নিচে লুকিয়ে থাকা অর্থনৈতিক যুদ্ধ

বোমা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পড়লেও, এই ধরনের যুদ্ধ কেবল সামরিক নয়। এগুলো অর্থনৈতিক লড়াইও, এবং অনেক সময় রাজনৈতিক ফল নির্ধারণ করে দেয় অর্থনৈতিক মঞ্চটাই। এর তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে: তেলের দামের ধাক্কা, বিমা খরচ বৃদ্ধি, সমুদ্রপথে ব্যাঘাত, উদ্বিগ্ন পুঁজি, চাপের মুখে সরবরাহ শৃঙ্খল, এবং আবারও মনে করিয়ে দেওয়া যে একটি আঞ্চলিক সংঘাত পুরো বৈশ্বিক ব্যবস্থাকেও কাঁপিয়ে দিতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে এটি শুধু জ্বালানি রপ্তানির প্রশ্ন নয়। এটি এমন এক আঞ্চলিক উন্নয়ন মডেলের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন, যা নির্ভরযোগ্যতার ওপর দাঁড়িয়ে। ভারতের, ইউরোপের এবং বড় এশীয় অর্থনীতিগুলোর কাছে এটি আমদানি খরচ ও কৌশলগত দুর্বলতার প্রশ্ন। বৃহত্তর বিশ্বের কাছে এটি সেই তথাকথিত আন্তঃসংযুক্ত বৈশ্বিক অর্থনীতির ভঙ্গুরতার প্রশ্ন, যা আজও সরু জলপথ ও রাজনৈতিকভাবে অস্থির করিডরের ওপর নির্ভরশীল।

যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার দীর্ঘমেয়াদি ফল শুধু মূল্যস্ফীতি বা ধীর প্রবৃদ্ধি হবে না। বরং রাষ্ট্রগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রকৌশল, সরবরাহব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক জোটকে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করবে। যুদ্ধ শুধু ধ্বংস করে না; অগ্রাধিকারের মানচিত্রও বদলে দেয়।

শেষ কোথায় হতে পারে?

এই সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সত্য হল—এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষই পুরোপুরি সন্তোষজনক বেরোনোর পথ খুঁজে পায়নি।

আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি সম্ভব, কিন্তু তা তখনই, যখন সব পক্ষ নিজেদের দাবি কিছুটা নামিয়ে এনে অনিশ্চয়তার সঙ্গে বাঁচতে রাজি হবে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধও সম্ভব, বিশেষ করে যদি সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বারবার কৌশলগত বিজয় এনে দিলেও রাজনৈতিক সমাপ্তি না দেয়। বিশ্ব অর্থনীতির আতঙ্কে চাপিয়ে দেওয়া এক বিরতিও আসতে পারে, যদি হরমুজে বিঘ্ন অসহনীয় হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বিপজ্জনক পথ হবে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর চেষ্টা, কিন্তু এরপর কী হবে তার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়া। কারণ তাতে একটি কৌশলগত প্রতিপক্ষকে বিশাল আঞ্চলিক শূন্যতায় বদলে দেওয়া হতে পারে।

সম্ভবত এটাই এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। আধুনিক যুদ্ধ প্রায়ই খুব স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়, কিন্তু পরে গিয়ে বিরোধে আটকে যায়। প্রথম দিনগুলো ঘোষিত লক্ষ্যে ভরা থাকে। পরের দিনগুলো ভরে ওঠে একে অন্যের সঙ্গে না মেলা বেরোনোর পথ দিয়ে।

২০৩০-এর পথে

এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য হয়তো আর সেই কৌশলগত যুগের মধ্যে থাকবে না, যার মধ্যে যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল। অঞ্চলটি সম্ভবত আরও বেশি সামরিকীকৃত হবে, আরও বেশি সন্দেহপ্রবণ হবে, এবং আরও বেশি খোলাখুলি বিভক্ত হবে প্রতিদ্বন্দ্বী নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে। উপসাগরীয় দেশগুলো আরও বেশি ভারসাম্য রক্ষার নীতি নেবে। ইজরায়েল সামরিকভাবে শক্তিশালী থাকলেও রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে। ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অসম লড়াইয়ের কৌশলের ওপর আরও বেশি আস্থা নিয়ে উঠতে পারে, এবং রাশিয়া-চীনের ওপর আরও নির্ভরশীল হতে পারে। ভারত সব পক্ষের সঙ্গে জায়গা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ইউরোপকে ঠিক করতে হবে—সে কি সত্যিই প্রাসঙ্গিক হতে চায়, নাকি শুধু মন্তব্য করেই যাবে।

তাই ২০৩০-এর দিকে এগোনো বিশ্বকে হয়তো নির্ধারণ করবে না—এই যুদ্ধে কে সরাসরি জিতল। বরং নির্ধারণ করবে—যুদ্ধটি কী প্রমাণ করল। এটি দেখিয়েছে যে বিপুল সামরিক শক্তি থাকলেই কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয় না। এটি দেখিয়েছে যে চাপের মুখে আঞ্চলিক শক্তিগুলো ভূগোল, বাজার ও অনিশ্চয়তাকেও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কার্যকর অস্ত্রে পরিণত করতে পারে। আর এটি দেখিয়েছে যে গভীরভাবে সংযুক্ত এক বিশ্বে, একটি পারমাণবিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুদ্ধ খুব দ্রুত বাণিজ্য, জ্বালানি, আইন, জোট এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রশ্নে পরিণত হতে পারে।

এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বিপদ ঠেকানোর নামে। কিন্তু ইতিহাস হয়তো একে মনে রাখবে এমন এক ঘটনা হিসেবে, যা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে—এই যুগের নতুন বিপদগুলো কত বড়, কত বহুস্তরীয়, এবং কতখানি এখনো অসমাপ্ত।

 

প্রফেসর উজ্জ্বল কে চৌধুরী টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং শিক্ষা, গণমাধ্যম ও বিশ্বপরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত লেখেন।

Ujjwal Anu Chowdhury

Add comment

Most popular