
লখনউতে অনুষ্ঠিত এডইনবক্স রিজিওনাল হায়ার এডুকেশন সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ডঃ টি.পি. সিং, পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, আজকের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবশ্যই প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে আন্তঃ, বহু এবং আন্তঃশাস্ত্রীয় শিক্ষার দিকে অগ্রসর হতে হবে।
তিনি বলেন যে, আন্তঃশাস্ত্রীয় শিক্ষা দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, অন্যদিকে বহুশাস্ত্রীয় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একাধিক বিষয়ে সমান্তরাল ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে। আন্তঃশাস্ত্রীয় শিক্ষা এই সীমানা অতিক্রম করে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের উপর মনোযোগ দেয়, যা বর্তমান সময়ের একটি প্রধান চাহিদা।
শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষতার পরিবর্তনশীল প্রকৃতির উপর আলোকপাত করে ডঃ সিং বলেন যে, পূর্বে “টার্মিনাল স্কিলস” বা চূড়ান্ত দক্ষতা মডেলটি প্রচলিত ছিল, যেখানে অর্জিত দক্ষতার ভিত্তিতে একটি কর্মজীবন গড়ে উঠত। তবে, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের ধরনের কারণে এই মডেলটি আর যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন যে, আজকের সময়ে “ধারাবাহিক দক্ষতা অর্জন” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীদের অবশ্যই ক্রমাগত নতুন দক্ষতা শিখতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে নিজের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করে ডঃ সিং বলেন যে, এআই-কে পথপ্রদর্শক হিসেবে নয়, বরং সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মানুষ যদি এআই-এর নির্দেশনার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে তাদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা এবং অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্ব সর্বদা মানুষের হাতেই থাকা উচিত, এবং এআই-কে শুধুমাত্র সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
তাঁর ভাষণে তিনি শিক্ষার্থীদের সারাজীবন কৌতূহলী, নমনীয় এবং শিখতে ইচ্ছুক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল একটি ডিগ্রি অর্জন করা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদগণ মনোযোগ সহকারে তাঁর মতামত শোনেন এবং সেগুলোকে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করেন।




Add comment