
“ডিজিটাল ল্যাব এবং STEM ল্যাবের মতন আধুনিক শিখন মাধ্যমের ব্যবস্থা আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করবে।” – উজ্জ্বল কে. চৌধুরী
২৭শে মার্চ, ২০২৬, সানকিজাহান, সুন্দরবন: বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়ে আয়োজিত হল বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নতুন STEM ল্যাবের উদ্বোধন। সুন্দরবনের সানকিজাহানে গতকালের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বহু স্বনামধন্য মাননীয় ব্যক্তিগণ এবং সমাজসেবীবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং কর্পোরেট জগতে বহু জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিগণ, যথা Head CSR
Petronet LNG Limited দীপাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সিনিয়ার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রাত্রি ব্যানার্জি, ইউনাইটেড ওয়ে অফ কলকাতার জেনারেল ম্যানেজার সৃঞ্জিনী মুখোপাধ্যায়, Company Secretary Touax Texmaco Railcar Leasing Private Limited এর আকাশ ঘুওয়ালেওয়ালা, Principal Director of Defence Estates, Eastern Command, Ministry of Defense সৌরভ রায়, কুলতলীর Block Development Officer বীরেন্দ্র অধিকারী, কুলতলী থানার ওসি স্বপন বিশ্বাস, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার সুজিত সরকার ও তরুণ কুমার মুখোপাধ্যায়, Insurance Consultant অমিত শ্রীবাস্তব, প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী মজুমদার, ECSF এর প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ পাল, Labkafe এর প্রীতম ঘোষ, IDSK এর প্রতিষ্ঠাতা বাসুদেব দাশগুপ্ত, ISRO এর প্রাক্তন বিজ্ঞানী ড: দেবাশীষ চক্রবর্তী, MSW এর সুজয় ভট্টাচার্য, IIMC এর ইন্দ্রজিৎ দত্ত, বাংলা সুস্থায়ী কৃষি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অনির্বাণ দাস, Independent Consultant বাসুদেব ব্যানার্জি ও প্রমুখ।
শ্রীমতি অনু চৌধুরী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত এই স্কুলটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন কুলতলী বিধানসভা এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক শ্রী জয়কৃষ্ণ হালদার যিনি বর্তমানে এই ফাউন্ডেশনের সভাপতি। 2007 সালে বিবেকানন্দ সংঘ নামে একটি ক্লাব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড: সুদীপ ভট্টাচার্য দান করা জমিতে এই স্কুলের প্রতিষ্ঠা করে। বেসরকারি অবৈতনিক এই স্কুলে বর্তমানে প্রায় ১৪ জন শিক্ষক নিযুক্ত আছেন যারা প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রীর দায়িত্বে আছেন।
শ্রীমতি অনু চৌধুরী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি জয়কৃষ্ণ হালদার বলেন, “গ্রামীণ ভারতে শিক্ষার একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে—এর মাধ্যমে একদিকে যেমন তরুণ মনকে ক্ষমতায়ন করতে হবে, তেমনি সম্প্রদায়ের সামাজিক কাঠামোকেও শক্তিশালী করতে হবে। বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়ে আমাদের লক্ষ্য হলো এমন ছাত্রছাত্রী গড়ে তোলা, যারা পড়াশোনায় পারদর্শী, নৈতিকভাবে দৃঢ় এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল। গত এক বছরে বিদ্যালয়টি তার শিক্ষার পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে। স্টেম (STEM) ও ডিজিটাল ল্যাবরেটরি স্থাপন, ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা শক্তিশালীকরণ এবং কিচেন গার্ডেন ও বায়োডাইভারসিটি পার্কের মতো পরিবেশগত শিক্ষার স্থান তৈরির মাধ্যমে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। আমাদের শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং দাতা, সহযোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন ছাড়া এই উদ্যোগগুলো সম্ভব হতো না। আমরা সকলে মিলে শুধু ছাত্রছাত্রীই নয়, সুন্দরবন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নেতাদেরও গড়ে তুলছি।”
ফাউন্ডেশনের সচিব প্রফেসর উজ্জ্বল কে চৌধুরীর কথায়, “একটি বিদ্যালয় তখনই সমৃদ্ধ হয়, যখন শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়ে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট, যেখানে কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং সহানুভূতি একসঙ্গে বিকশিত হয়।
স্টেম ল্যাব এবং ডিজিটাল ল্যাবের মতো আধুনিক শিক্ষণ স্থানের প্রবর্তন আমাদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সহযোগিতামূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল সরঞ্জাম এখন প্রথাগত শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলাধুলা, শিল্পকলা এবং পরিবেশগত উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করা, যা শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এই নিউজলেটারে লিপিবদ্ধ প্রতিটি অর্জন আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিষ্ঠার প্রতিফলন, যা অভিভাবক, সমাজসেবী এবং দাতাদের দ্বারা সমর্থিত।”
সুন্দরবন অঞ্চলের এক ছোট্ট কোণে, যেখানে নদী, বন আর প্রতিকূলতার মাঝে দৈনন্দিন জীবন গড়ে ওঠে, সেখানেই বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয় নীরবে শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বিদ্যালয়টি বিশ্বাস করে যে, শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্যও প্রস্তুত করতে হবে। এখানে শ্রেণিকক্ষ কৌতূহলকে লালন করে, খেলার মাঠ আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং সামাজিক উদ্যোগ সমাজ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।
এই বছরটি ছিল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বছর: নতুন শিক্ষণ গবেষণাগার, ক্রীড়া উদ্যোগের সম্প্রসারণ, পরিবেশ শিক্ষা এবং উন্নত শিক্ষাগত ফলাফল। প্রতিটি পদক্ষেপই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজের সদস্য এবং উদার সমর্থকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। “শিক্ষা হলো মানুষের মধ্যে আগে থেকেই বিদ্যমান পূর্ণতারই বহিঃপ্রকাশ।” – স্বামী বিবেকানন্দের এই মহৎ বাণীই এই বিদ্যালয়ের প্রেরণা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ দাস যিনি ২০২২ সাল থেকে স্কুলের সঙ্গে যুক্ত আছেন বললেন সুন্দরবনের গ্রামাঞ্চলে গুণগত শিক্ষা এবং শিক্ষার পরিষর আজও দুষ্প্রাপ্য তাই বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়ের মত জায়গাগুলি যাতে আরও উন্নতি করতে পারে, তারপর আছে তারা সর্বদাই নিয়োজিত। বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ছাড়াও পাঠাগার, গ্রন্থাগার, STEM ল্যাব, ডিজিটাল ল্যাব, নাট্যমঞ্চ, বিজ্ঞান হল, আর্ট এক্সিবিশন হল, গেস্ট হাউসের ব্যবস্থা আছে। পরবর্তীকালে বিদ্যালয়ে আরো সম্প্রসারণ করার কাজও বর্তমানে চলছে। স্কুলের পঠন-পাঠন ছাড়াও প্রাকৃতিক শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের আশেপাশে প্রায় ৭০ বিঘা সুন্দরী গাছের বন এবং ৪০ বিঘা জলাজমি এই ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে বলে জানিয়েছেন সভাপতি জয়কৃষ্ণ হালদার।
সর্বোপরি পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের সানকিজাহান গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত এই বিদ্যালয় যা বিবেকানন্দ আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে গড়ে তুলছে এক আদর্শগত বর্তমান এবং আরো শক্তিশালী করছে ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে উন্নত শিক্ষা প্রসারের হার।




Add comment