কালাচ বা Common Krait-এর বৈজ্ঞানিক নাম Bungarus caeruleus। এটি ভারতের অন্যতম তথা এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপ এবং প্রচলিতভাবে ভারতের ‘Big Four’-এর একটি। এর বিষ প্রধানত স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে।
অন্যান্য নিউরোটক্সিক রিলেটেড কোবরা এবং ক্রেট গ্রুপের কামড়ালে যে লক্ষণ দেখে বোঝা যায় তার একটি মাত্র লক্ষণ একই রকম চোখের পাতা ভার হয়ে আসা বা পড়ে যাওয়া।যাকে শিব নেত্র বলে অর্থাৎ শিবের চোখ যেমন ঢুলুঢুলু। মেডিকেল টার্মে টোসিস বলে। বাদবাকি অন্যান্য কোবরা বা ক্রেট গ্রুপের সাপের কামড় কালাচ কামরের লক্ষণের সঙ্গে মেলে না।
সংক্রমণ নিশ্চিত করতে কালাজ কামরের কোন পেসেন্টকে উপরের দিকে তাকিয়ে যদি তাকে এক থেকে দশ গুনতে বলা হয় সে কয়েকটি শব্দ বলার পরই আর বলতে পারবে না। জীব জড়িয়ে আসবে। চোখের পাতা পড়ে আসবে।
সাধারণত নিশাচর। দিনের বেলায় এটি অনেক সময় নিরিবিলি জায়গায় লুকিয়ে থাকে এবং রাতের দিকে বেশি সক্রিয় হয়। গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশ, ইঁদুরের গর্ত, কাঠ বা ইটের স্তূপ এবং বিভিন্ন আড়ালযুক্ত জায়গায় এদের দেখা যেতে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কালাচকে সবসময় সহজে শনাক্ত করা যায় না। এর গায়ে সাধারণত কালো বা নীলচে-কালো রং এবং হালকা সরু দাগ দেখা যায়। আবার কখনো কখনো গায়ের রং সম্পূর্ণ কালো হয় গায়ে কোন সাদা রিং বা ব্যান্ড থাকে না। ফলে শুধুমাত্র গায়ের রং দেখে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সঠিক নয়।
কালাচের বিষ মূলত নিউরোটক্সিক। ফলে কামড়ের পর চোখের পাতা ভার হয়ে আসা, গিলতে বা কথা বলতে অসুবিধা নাকি সুরে কথা বলা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে।বিশেষ সংক্রমণ বাড়লে তলপেট মোচড় দেওয়া পায়খানা পায়খানা ভাব পায়খানা হতেও পারে, নাও হতে পারে। বমি বমি ভাব বমি হতেও পারে নাও হতে পারে। কামরের জায়গা মশার কামড়ের মতো অনুভূতি। বাইট মার্ক সামান্য সময়ের মধ্যেই মিলিয়ে যায়। অনেক সময় কামড়ের জায়গায় ব্যথা বা ক্ষত না থাকায় মানুষ বুঝতেও পারেন না যে সাপে কামড়েছে।
ডাক্তার বাবুরা রোগীর লক্ষণ দেখে সনাক্ত করে ফেললেও অনেক সময় ডাক্তার বাবুরা যখন বলেন যে একে এভিএস দিতে হবে অর্থাৎ সাপে কামড়েছে তার চিকিৎসা করতে হবে তখন পেসেন্ট পার্টি সাপে কাটা চিকিৎসা করাতে অনেক সময় রাজি হতে দেরি হয় তাতে রোগীর চিকিৎসা বিলম্ব হয়।
তবে কালাচ শুধু মানুষের জন্য একটি বিষধর প্রাণী নয়; প্রকৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যান্য অনেক সাপের মতো কালাচও খাদ্যশৃঙ্খলের অংশ এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর তথা বিষধর সাপও খেয়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তাই সাপ দেখলেই মেরে ফেলা কোনো সমাধান নয়।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে কোনরকম সাপের কামড় সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে কোনো ঝাড়ফুঁক, কাটা-ছেঁড়া বা অন্য কোনো অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—মানুষকে নিরাপদ রাখা এবং একই সঙ্গে প্রকৃতির প্রাণীগুলোকেও রক্ষা করা।
সাপ দেখলে দূরত্ব বজায় রাখুন, নিজে ধরতে যাবেন না এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীর সাহায্য নিন। আর যদি সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটে, সময় নষ্ট না করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে পৌঁছান। তবে ইএসআই সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্বেও সাপের কামড়ে চিকিৎসা হয় না।




Add comment