
বিশ্বভারতীর ওড়িয়া বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সবিতা প্রধান (প্রকল্প অধিকর্তা) এবং মনোরঞ্জন প্রধান ভারত সরকারের আদিবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রকের অর্থানুকুলে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ প্রকল্প রূপায়ন করেন (২০১৬–১৯)। আরটিআই-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ০৫.০৪.২০১৯ তারিখের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট অনুযায়ী, অনুমোদিত মোট ২.৯৩ কোটি টাকার অনুদান সম্পূর্ণ খরচ করা হয়েছে। যদিও মন্ত্রকে করা একটি আরটিআই আবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কোনো রেকর্ড বা নথি নেই।
তবে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, ৩০.০৭.২০২৬ তারিখে অবসর গ্রহণের সময় অধ্যাপক সবিতা প্রধান প্রকল্পের অধীনে কেনা স্থায়ী সম্পদগুলোর কোনো হিসেব না দিয়েই এবং সেগুলি হস্তান্তর না করেই বিভাগীয় প্রধানের (HOD) দায়িত্ব সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রমীলা পাতুলিয়াকে দেন। বর্তমানে বিভাগ বা বিশ্ববিদ্যালয়—কারো কাছেই এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের কোনো হিসেব বা চিহ্নমাত্র নেই, কারণ সবিতা প্রধান কেন্দ্রীয় বা বিভাগীয় অ্যাসেট রেজিস্টারের এন্ট্রি যাচাই (ভেরিফাই) না করেই এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত নথি না জমা দিয়েই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।
এই অনুদানের টাকায় কেনা বেশ কিছু সরঞ্জাম – যেমন এয়ার কন্ডিশনার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর এবং ক্যামেরা – বিভাগে নেই এবং অভিযোগ উঠেছে যে এগুলো প্রধান দম্পতির বাসভবনে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির অর্থে স্থাপিত আদিবাসী জাদুঘরটিরও কোনো কাগজপত্র নেই। এছাড়াও, তাঁরা দুজন ওড়িয়া বিভাগে আদিবাসী কল্যান বিষয়ে প্রকাশনার খাতে বরাদ্দ ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজেদের নামে ২০টিরও বেশি বই প্রকাশ করেছেন। বিভাগ বা তার রেজিস্টারে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এত বড় একটি প্রকল্পের সমস্ত সরঞ্জাম পরবর্তী বিভাগীয় প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে, এতে চরম আর্থিক অনিয়ম ধরা পরেছে।
যদিও এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা জুড়ে আদিবাসিদের উন্নয়নমূলক কাজ করা, বাস্তবে এর কাজ কেবল ওড়িশাতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এবং বাকি চারটি রাজ্যে কোনও কাজ হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওড়িয়া বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরের গ্রান্টে এই গরমিল ও তছরুপের ফলে আদিবাসী কল্যাণের কাজ ব্যাহত হয়েছে এবং কাজ না করেই মনগড়া প্রকল্প-রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, যা ভারত সরকারের সঙ্গে এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এর ফলে আদিবাসী কল্যাণের কাজ ব্যাহত হয়েছে এবং উন্নয়ন স্তিমিত হয়েছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা।




Add comment